events

Seminar on Youth in Digital Awareness To-Do and Not-To-Do

সময় আগাচ্ছে, এগিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী। সেই সাথে তাল মিলেয়ে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। ‘ভিশন-২০২১’ এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই পরিক্রমায় স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরই কাঙ্ক্ষিত ডিজিটাল বাংলাদেশেরও একটি রূপ দেখতে পাচ্ছি। এই করোনা মহামারীতেও পিছিয়ে নেই আমরা। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশও ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। অনলাইন মার্কেটিং, অনলাইন বিজনেস, তথ্য শেয়ার, অনলাই ব্যাংকিং, সোশাল মিডিয়া সহ অনেক ডিজিটাল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সেই কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। যেগুলো ডিজিটাল প্লাটফর্মে হ্যাকিং, সাইবার বুলিং ইত্যাদি নামে পরিচিত। সেই জায়গা থেকে সমাজে যেমন বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় তেমনি ডিজিটাল সমস্যাগুলো সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্ম কে সচেতন করার লক্ষ্যে গত ২৪  মার্চ বাংলাদেশ আইসিটি ডিভিশন ও স্টার্টআপ খুলনার পৃষ্ঠপোষকতায় YDA( Youth Digital Awareness) আয়োজন করেছে একটি ডিজিটাল সচেতনতামূলক সেমিনারের। সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ আইসিটি ডিভিশনের বিসিসি ভবনের আইডিয়া প্রজেক্ট এ। অনুষ্ঠানের স্লোগান ছিলো, “Youth in Digital Awareness-To-do and not to-do.” অর্থাৎ ডিজিটাল প্লাটফর্মে ‘কি’ করা যাবে  এবং ‘কি’ করা যাবে না। সকাল ১০.৩০ টা থেকে দুপুর ২.৩০টা পর্যন্ত সেমিনারটি পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. এন,এম জিয়াউল আলম, পিএএ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাজি হোসনা আরা, উপ-প্রকল্প পরিচালক(উপসচিব), আইডিয়া প্রকল্প। কি নোট স্পিকার হিসেবে সেশন পরিচালনা করেন মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, তথ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল।  স্বাগত বক্তব্য রাখেন আর,এইচ,এম আলাওল কবির, সিনিয়র কনসালটেন্ট,রিসার্চ এন্ড ইনোভেশন স্পেশালিষ্ট (টিম লিডার), আইডিয়া প্রকল্প। ডিজিটাল প্লাটফর্ম বিষয়ক আরো গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন পার্থপ্রতিম দেব, নির্বাহী পরিচালক,  বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এবং জনাব সৈয়দ মোজিবুল হক, প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), আইডিয়া প্রকল্প। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইন্সপিয়ারিং বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান ফাহাদ, ইউটিউব চ্যানেল ‘সোহাগ ৩৬০°” এর প্রতিষ্ঠাতা সোহাগ মিয়া, শ্রেষ্ঠ থেকে ইমরান রাসেল এবং ক্লাউড ইন্সটিটিউট থেকে আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ।

 

বক্তারা ডিজিটাল প্লাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা, ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহারে সতর্কতা, ডিজিটাল সমস্যা ও সমাধান, সাইবার ক্রাইমসহ ডিজিটাল সচেতনতা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা আলোচনার সাথে সাথে অংশগ্রহণকারীদের ডিজিটাল সমস্যা ও সমাধান সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। অনুষ্ঠানে অতিথিদের ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অংশগ্রহণকারীদের টি-শার্ট, লাঞ্চ ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য প্রদান করেন ইয়ুথ ইন ডিজিটাল এওয়ারনেস এর চিফ অপারেটিং অফিসার এইচ,এম,রায়হান ও ইভেন্ট কনভেনর  এম এ রাশিদ এবং সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন YDA এর পরিচালক মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, YDA এর পথচলা থেমে থাকবে না। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্ম কে প্রশিক্ষণ দিতে ও উপযুক্ত প্লাটফর্মে সুযোগ দিতে  এবং ডিজিটাল সমস্যাগুলো সম্পর্কে সচেতন করতে YDA কাজ করে যাবে। ভবিষ্যতে দেশের গন্ডি পেড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ডিজিটাল বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে কাজ করে যাবে। সেমিনারে অংশগ্রহণকারী তরুণ প্রজন্ম মনে করেন, YDA নিজেদের কে মেলে ধরার একটি বিশেষ সুযোগ।  অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকুরীজীবিসহ প্রায় দেড়শতাধিক ডেলিগেইট অংশগ্রহন করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা সত্বেও ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় আয়োজকরা আনন্দিত। ইভেন্ট কনভেনার এম এ রাশিদ এ সম্পর্কে বলেন, “আমাদের প্রত্যেকটা টিম যথেষ্ট পরিশ্রম করেছে। ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। করোনাভাইরাসের সচেতনতার জন্য সীট লিমিটেড করে দেওয়া হয়েছিলো। নয়তো উপস্তিতি আরো বেশি হতো।”ছয়টি ক্যাটাগরিতে YDA টিমের বেস্ট পার্ফমারদের ক্রেস্ট সম্মাননা এবং টিমের প্রত্যেককে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

 

Leave A Comment

Your Comment
All comments are held for moderation.